১. শুরুর কথা: "এই রোডম্যাপ কেন পুরো কোর্সের মেরুদণ্ড?"
কনসাল্টিং জগতে একটি বিখ্যাত কথা রয়েছে: "Where the rubber meets the road"—অর্থাৎ এখানেই বাস্তবতার মাটিতে চাকা ঘোরে।
আগের পাঠগুলোতে আমরা কনসাল্টিং ফার্মের ধরন, তাদের ব্যবসায়িক মডেল এবং বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্ট সম্পর্কে জেনেছি। কিন্তু আপনি যখন একজন ক্লায়েন্টের মুখোমুখি বসবেন, তখন আপনি কীভাবে একটি জটিল, কুয়াশাচ্ছন্ন এবং শত কোটি টাকার সংকট সমাধান করবেন? আপনার চিন্তার কাঠামোটি ঠিক কেমন হবে?
অধিকাংশ অপেশাদার মানুষ কোনো সমস্যা শোনামাত্রই হুট করে একটি 'সমাধান' বাতলে দিতে চান। এটি ঠিক ওই হাতুড়ে ডাক্তারের মতো—যিনি রোগীর কথা পুরো না শুনেই প্রেসক্রিপশন লিখে দেন! ম্যাককিনসে, বেইন বা বিসিজি-র মতো শীর্ষ ফার্মগুলো এই ফাঁদে পা দেয় না। তারা অনুসরণ করে একটি কঠোর, যুক্তিভিত্তিক এবং নিখুঁত ৭-ধাপের সমস্যা সমাধানের রূপরেখা (7-Step Problem-Solving Approach)। এই লেসনটি হলো পুরো কোর্সের দিকনির্দেশক কম্পাস বা ব্লুপ্রিন্ট। এখান থেকেই শুরু হচ্ছে আমাদের কনসাল্টিং মেথডোলজির মূল অভিযাত্রা।
LO ২. এই লেসন থেকে আমরা কী শিখব? (Learning Outcomes)
কনসাল্টিং সমস্যা সমাধানের ৭টি সুনির্দিষ্ট ধাপের সঠিক ক্রম ও পারস্পরিক যৌক্তিক সংযোগ ব্যাখ্যা করা।
প্রথম দুটি ধাপের সাথে সোর্সে উল্লিখিত মূল টুলস—হাইপোথিসিস (Day 1 Answer) এবং ইস্যু ট্রি (Issue Tree)-এর ভূমিকা চিহ্নিত করা।
সমস্যাকে "অংশে ভেঙে ফেলা" (Disaggregate) এবং "অগ্রাধিকার নির্ধারণ" (Prioritize)-এর মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্য পরিষ্কার করা।
সমস্যা বোঝা ➔ কাঠামো তৈরি ➔ প্রায়োরিটি ➔ পরিকল্পনা ➔ বিশ্লেষণ ➔ সিন্থেসিস ➔ সুপারিশ—ধারাবাহিক প্রবাহ বর্ণনা করা।
প্রমাণ ছাড়া সরাসরি সমাধানে লাফিয়ে পড়ার (Jumping to Solutions) মারাত্মক ঝুঁকি চিহ্নিত করা।
কীভাবে এই রূপরেখাটি পরবর্তী লেসন ৭, ৮ ও ৯-এর জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করে তা স্পষ্ট করা।
৩. ৭-ধাপের সামগ্রিক রোডম্যাপ (The 7-Step Roadmap Infographic)
প্রবলেম ডেফিনিশন (Problem Definition)
Hypothesis / Day 1 Answerআসল সমস্যাটি নিখুঁতভাবে সংজ্ঞায়িত করা এবং প্রথম দিনেই একটি প্রাথমিক অনুমান দাঁড় করানো।
সমস্যা ভেঙে খণ্ড খণ্ড করা (Disaggregate the Problem)
Issue Treesএকটি বড় পাহাড়সম সমস্যাকে ইস্যু ট্রি ব্যবহার করে ছোট ছোট যৌক্তিক ও স্বতন্ত্র অংশে বিভক্ত করা।
অগ্রাধিকার নির্ধারণ (Prioritize the Issues)
80/20 Ruleইস্যু ট্রির অপ্রয়োজনীয় ডালপালা বাদ দিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী ২০% অংশে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া।
কাজের পরিকল্পনা তৈরি (Build the Work Plan)
Action Timelineকে, কী, কখন এবং কীভাবে ডাটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করবে তার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন ও টাইমলাইন।
তথ্য-উপাত্তের গভীর বিশ্লেষণ (Do the Analysis)
Fact-based Rigorসংগৃহীত উপাত্ত ও ফ্যাক্টস দিয়ে প্রাথমিক হাইপোথিসিস পরীক্ষা ও প্রমাণ বা অপ্রমাণ করা।
ফলাফল বা আবিষ্কারের সংশ্লেষণ (Synthesize the Findings)
"So What?" Insightশুধু বিচ্ছিন্ন ডাটা নয়; ডাটার পেছনের মূল অর্থ ও ব্যবসায়িক তাৎপর্য এক্সিকিউটিভ ভাষায় প্রকাশ করা।
চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ (Make the Recommendation)
Actionable Decisionসিইও বা বোর্ডের সামনে অত্যন্ত স্পষ্ট, সাহসী এবং বাস্তবায়নযোগ্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ তুলে ধরা।
৪. ধাপে ধাপে ৭টি স্তরের ব্যবচ্ছেদ: একটি ধারাবাহিক চলমান উদাহরণ
"একটি দেশীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ঢাকা শহরে পণ্য ডেলিভারি দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সময়ের চেয়ে গড়ে ২ দিন বেশি দেরি হচ্ছে এবং কাস্টমারদের অভিযোগ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।"
১. সমস্যা সুনির্দিষ্ট করা
মূল উদ্দেশ্য: ক্লায়েন্টের ভাসা-ভাসা কথার গভীরে গিয়ে আসল সমস্যাটি নিখুঁতভাবে সংজ্ঞায়িত করা এবং প্রথম দিনেই একটি প্রাথমিক অনুমান দাঁড় করানো।
মূল প্রশ্ন: "আমরা আসলে ঠিক কোন মূল সমস্যার সমাধান করতে এখানে এসেছি এবং সাফল্যের পরিমাপক কী?"
সোর্সের টুল: হাইপোথিসিস (Hypothesis) বা "ডে-১ আনসার" (Day 1 Answer)।
• ক্লায়েন্ট বললেন: "আমাদের ডেলিভারি টিম অদক্ষ।"
• কনসালট্যান্ট ডিফাইন করলেন: "আমাদের লক্ষ্য হলো আগামী ৩ মাসের মধ্যে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর গড় সময় ৪৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ২৪ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা।"
• ডে-১ হাইপোথিসিস: "সমস্যাটি হয়তো ওয়্যারহাউসে নয়, বরং পিক-আওয়ারে রাস্তায় মারাত্মক ট্রাফিকের কারণে হচ্ছে।"
২. সমস্যা ভেঙে খণ্ড খণ্ড করা
মূল উদ্দেশ্য: একটি পাহাড়সম সমস্যাকে একবারে সমাধান না করে তাকে ছোট ছোট যৌক্তিক ও স্বতন্ত্র অংশে বিভক্ত করা।
মূল প্রশ্ন: "এই জটিল সমস্যাটির পেছনের সম্ভাব্য কাঠামোগত উৎস বা উপাদানগুলো কী কী?"
সোর্সের টুল: ইস্যু ট্রি (Issue Trees)।
ডেলিভারির পুরো প্রসেসকে ইস্যু ট্রির ৩টি স্তরে ভাগ করা হলো: (ক) ওয়্যারহাউস পর্যায় (পণ্য খোঁজা, প্যাকিং ও লোডিং); (খ) ট্রানজিট পর্যায় (রাস্তায় পরিবহন, ট্রাফিক, রুট); এবং (গ) গ্রাহক পর্যায় (ঠিকানা খুঁজে পাওয়া, আনলোডিং ও ক্যাশ কালেকশন)।
৩. অগ্রাধিকার নির্ধারণ
মূল উদ্দেশ্য: ইস্যু ট্রির সব ডালে সমান শক্তি ক্ষয় না করে, যে অংশটি সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ সেখানে পূর্ণ ফোকাস দেওয়া।
মূল প্রশ্ন: "সমস্যার কোন ২০% মূল উৎসের ওপর আঘাত করলে ৮০% সুফল পাওয়া যাবে?"
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেল ওয়্যারহাউস ও গ্রাহকের দরজায় আনলোডিংয়ে দেরি সামান্য। মোট বিলম্বের ৮৫%-ই ঘটছে "ট্রানজিট বা রাস্তায় পরিবহন" পর্যায়ে। ফলে বাকি ডালপালা বাদ দিয়ে কেবল ট্রানজিট অংশে অগ্রাধিকার দেওয়া হলো।
৪. কাজের পরিকল্পনা তৈরি
মূল উদ্দেশ্য: অগ্রাধিকার পাওয়া বিষয়গুলো প্রমাণ বা অপ্রমাণ করতে ঠিক কে, কোন ডাটা, কীভাবে এবং কত দিনের মধ্যে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করবে তার টাইমলাইন সাজানো।
মূল প্রশ্ন: "আমাদের অনুমানগুলো যাচাই করতে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য লাগবে এবং সময়সীমা কী?"
পরবর্তী ২ সপ্তাহের সুনির্দিষ্ট প্ল্যান: ভ্যানগুলোর জিপিএস ট্র্যাকিং লগ পর্যালোচনা, ট্রাফিকের পিক আওয়ার ডাটা সংগ্রহ এবং চালকদের রুট ডায়রি বিশ্লেষণ করা।
৫. তথ্য-উপাত্তের গভীর বিশ্লেষণ
মূল উদ্দেশ্য: অনুমানের ওপর নির্ভর না করে সংগৃহীত উপাত্ত, সংখ্যা ও ফ্যাক্টসের চুলচেরা বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা।
মূল প্রশ্ন: "কঠোর উপাত্ত ও বাস্তব প্রমাণ আমাদের হাইপোথিসিস সম্পর্কে কী বলছে—অনুমানটি কি সঠিক নাকি ভুল?"
জিপিএস ডাটা বিশ্লেষণ করে অকাট্য প্রমাণ মিলল: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে বড় কাভার্ড ভ্যানগুলো ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে দৈনিক গড়ে ৪ ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকে; অন্যদিকে সকাল ৮টার আগের ট্রিপগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছায়।
৬. ফলাফল বা আবিষ্কারের সংশ্লেষণ
মূল উদ্দেশ্য: ক্লায়েন্টের সামনে শুধু ডাটার স্তূপ না রেখে, তথ্যের পেছনের মূল অর্থ বা "সো হোয়াট? (So What?)" অনুধাবন করা।
মূল প্রশ্ন: "এইসব তথ্য ও বিশ্লেষণের সারকথা কী এবং ব্যবসার ভবিষ্যৎ ফলাফলের ওপর এর তাৎপর্য কী?"
কাঁচা ডাটা: "ভ্যানগুলো ৪ ঘণ্টা জ্যামে থাকে।"
সিন্থেসিস (Synthesis): "বর্তমান ডেলিভারি মডেলের বড় ত্রুটি পিক-আওয়ারে বড় গাড়ি নিয়ে চলা। গাড়ির আকার ছোট করে এবং ডেলিভারির সময়সূচি পরিবর্তন করলেই অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই ডেলিভারি সময় ৫০% কমানো সম্ভব।"
৭. চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ
মূল উদ্দেশ্য: পরিচালনা পর্ষদের সামনে অত্যন্ত স্পষ্ট, সাহসী ও যুক্তিযুক্ত অ্যাকশন প্ল্যান উপস্থাপন করা।
মূল প্রশ্ন: "ক্লায়েন্টের আগামীকাল সকাল থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কী করা উচিত এবং এর দৃশ্যমান ফল কী হবে?"
সুপারিশ: "আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বড় ভ্যানের সংখ্যা ৩০% কমিয়ে মোটরসাইকেল ও ছোট ই-বাইক চালুর পাইলট শুরু করা এবং সকাল ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে প্রথম স্লটের ৬০% ডেলিভারি সম্পন্ন করার নতুন রোস্টার কার্যকর করা।"
৫. সামগ্রিক প্রক্রিয়ার তুলনামূলক ছক (The 7-Step Master Table)
| ধাপ নম্বর ও নাম | মূল উদ্দেশ্য (Purpose) | মূল প্রশ্ন (Key Question) | সম্ভাব্য আউটপুট (বর্ণনা) | পরের ধাপের সংযোগ |
|---|---|---|---|---|
| ১. Problem Definition | আসল সমস্যা নির্ধারণ ও প্রাথমিক অনুমান গঠন। | "আমরা ঠিক কোন সমস্যার সমাধান করছি?" | প্রবলেম স্টেটমেন্ট ও ডে-১ হাইপোথিসিস। | সংজ্ঞায়িত সমস্যাটিকে ভাঙার জন্য ধাপ ২-এ পাঠানো হয়। |
| ২. Disaggregate | সমস্যাকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করা। | "সমস্যার পেছনের সম্ভাব্য উৎসগুলো কী কী?" | পূর্ণাঙ্গ ইস্যু ট্রি (Issue Tree)। | এই ট্রি থেকেই ধাপ ৩-এ অপ্রয়োজনীয় ডাল ছাঁটা হয়। |
| ৩. Prioritize | গুরুত্বপূর্ণ ২০% অংশে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা। | "কোন ইস্যুগুলো ফলাফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে?" | প্রায়োরিটাইজেশন তালিকা বা ফোকাস এরিয়া। | নির্বাচিত অংশগুলো বাস্তবায়নে ধাপ ৪-এ ছক আঁকা হয়। |
| ৪. Work Plan | কে, কী, কখন ও কীভাবে ডাটা খুঁজবে তা ঠিক করা। | "আমাদের অনুমান যাচাইয়ের সময়সীমা ও উৎস কী?" | দায়িত্ব ও সময়সীমাসহ বিস্তারিত ওয়ার্ক প্ল্যান। | এই প্ল্যান অনুযায়ী ধাপ ৫-এ বিশ্লেষণ চলে। |
| ৫. Analysis | সংখ্যা ও উপাত্ত দিয়ে অনুমান যাচাই করা। | "বাস্তব উপাত্ত আমাদের অনুমান সম্পর্কে কী বলছে?" | ডাটা মডেল, গ্রাফ ও বিশ্লেষণ প্রতিবেদন। | এই বিশ্লেষণের কাঁচামাল নিয়ে ধাপ ৬-এ সারসংক্ষেপ হয়। |
| ৬. Synthesis | ডাটা থেকে গভীর অন্তর্দৃষ্টি বা 'সো হোয়াট' বের করা। | "এইসব ডাটার পেছনের মূল বাণিজ্যিক শিক্ষা কী?" | এক্সিকিউটিভ সিন্থেসিস ও স্ট্র্যাটেজিক ইনসাইট। | এই অন্তর্দৃষ্টির ওপর ভিত্তি করেই ধাপ ৭-এ সমাধান দাঁড়ায়। |
| ৭. Recommendation | বাস্তবায়নযোগ্য দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত পেশ। | "ক্লায়েন্টের এখন সুনির্দিষ্টভাবে কী করা উচিত?" | চূড়ান্ত অ্যাকশন প্ল্যান ও প্রেজেন্টেশন ডেক। | অনুমোদন পেলে সরাসরি মাঠপর্যায়ে রূপায়ণ শুরু হয়। |
৬. "ভেঙে ফেলা" বনাম "বাছাই করা": সূক্ষ্ম পার্থক্যের চিত্রায়ন
সমগ্র সমস্যাকে ব্যবচ্ছেদ করা
উদ্দেশ্য: কোনো কিছু বাদ না দিয়ে পুরো ছবিটা দেখা। সমস্যাটির ভেতরে কী কী উপাদান রয়েছে তা সম্পূর্ণ উন্মোচন করা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বেছে নেওয়া
উদ্দেশ্য: কম গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোকে সচেতনভাবে বাদ দিয়ে কেবল সবচেয়ে প্রভাবশালী ২০% অংশে মেধা নিয়োগ করা।
ধাপ ১ থেকে সরাসরি ধাপ ৭-এ লাফ দেওয়ার মারাত্মক ফাঁদ!
অনভিজ্ঞ কনসালট্যান্টদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—ক্লায়েন্টের সমস্যা শোনামাত্রই (ধাপ ১) কোনো ইস্যু ট্রি, ডাটা বিশ্লেষণ বা সিন্থেসিস ছাড়াই সরাসরি প্রেসক্রিপশন বা সুপারিশ (ধাপ ৭) দিয়ে দেওয়া!
❌ বিপজ্জনক শূন্যতা: কোনো ইস্যু ট্রি নেই ➔ কোনো প্রায়োরিটাইজেশন নেই ➔ তথ্যের প্রমাণ নেই ➔ কোনো সিন্থেসিস নেই।
⚠️ পরিণতি: ভুল রোগ নির্ণয়, ভুল সমাধান এবং ক্লায়েন্টের কোটি কোটি টাকার অপচয়!
🔗 ৮. পরবর্তী লেসনগুলোর সাথে সেতুবন্ধন (Bridge to Lessons 7–9)
লেসন ৬ হলো কোর্সের সম্পূর্ণ মানসিক রোডম্যাপ। সোর্স অনুযায়ী, এই ৭টি ধাপকে একসাথে বিস্তারিত না শিখিয়ে, শুরুতে এর সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রথম দুটি ধাপকে পরবর্তী ৩টি লেসনে গভীরভাবে উন্মোচন করা হয়েছে:
💡 ৯. শিক্ষার্থীদের সাধারণ ভুল ও সেলফ-চেক
✍️ ১০. বাস্তব অনুশীলন: আপনার জীবনের একটি সমস্যায় রূপরেখা প্রয়োগ
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক মডেল পোক্ত করার একটি ব্যবহারিক শিক্ষণীয় অনুশীলন।)
আপনার ব্যক্তিগত জীবন, পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্রের একটি বাস্তব সমস্যা বেছে নিন (যেমন: "প্রতি মাসে আমার জমানো টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে")। একটি সাদা কাগজে ৭টি ধাপ ম্যাপ করুন:
- আপনার সুনির্দিষ্ট সমস্যা ও প্রাথমিক ডে-১ অনুমান কী?
- সমস্যাটিকে ২–৩টি শাখায় কীভাবে ভাঙবেন?
- কোন শাখাটিকে সবার আগে অগ্রাধিকার দেবেন?
- তথ্য সংগ্রহের কী পরিকল্পনা করবেন?
- কী ডাটা বা হিসাব মেলাবেন?
- ডাটা থেকে মূল কী শিক্ষা পাবেন?
- আপনার নিজের জন্য চূড়ান্ত অ্যাকশন প্ল্যান কী হবে?
১১. নিজেকে যাচাই করুন (Knowledge Check)
সঠিক উত্তরগুলো দেখার আগে নিজে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করুন:
কনসাল্টিং ৭-ধাপের সমস্যা সমাধান রূপরেখার একেবারে প্রথম ধাপ কোনটি?
সোর্স অনুযায়ী প্রথম ধাপের (Problem Definition) সাথে কোন টুল বা ধারণাটি সরাসরি যুক্ত?
সমস্যাকে ছোট ছোট অংশে ভেঙে ফেলার জন্য (Disaggregate) কোন টুল ব্যবহার করা হয়?
ইস্যু ট্রির অপ্রয়োজনীয় শাখা বাদ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে ফোকাস করা কোন ধাপের কাজ?
শুধু ডাটা উপস্থাপন না করে, ডাটার পেছনের মূল অর্থ ও ইনসাইট বের করাকে কী বলে?
অনভিজ্ঞ অ্যানালিস্টদের সবচেয়ে বড় ভুল প্রবণতা কোনটি?
পরবর্তী লেসন ৭ এবং ৮-এ এই ৭-ধাপের কোন দুটি ধাপকে বিশেষভাবে গভীরে শেখানো হবে?
প্রশ্ন ০৮: সমস্যা "ভেঙে ফেলা" (Disaggregate) এবং "অগ্রাধিকার দেওয়া" (Prioritize)-এর মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য কী?
প্রশ্ন ০৯: ধাপ ৫ (Analysis) এবং ধাপ ৬ (Synthesis)-এর মধ্যে তফাত কী? একটি ছোট উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলুন।
প্রশ্ন ১০: কেন বলা হয় যে সমস্যা সমাধানের এই ৭টি ধাপ একটির পর একটি শৃঙ্খলিতভাবে আসতে হয়?
উত্তর ০৮: Disaggregate হলো সমস্যার কোনো অংশ বাদ না দিয়ে সমগ্র বিষয়টিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লজিক্যাল উপাদানে মেলে ধরা; আর Prioritize হলো কম গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে সচেতনভাবে বাদ দিয়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী ২০% অংশে মেধা নিয়োজিত করা।
উত্তর ০৯: Analysis হলো কাঁচা উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তথ্য বের করা (যেমন: "আমাদের গাড়িগুলো দিনে ৪ ঘণ্টা জ্যামে থাকে"); আর Synthesis হলো সেই তথ্যের ব্যবসায়িক তাৎপর্য বা ইনসাইট বের করা (যেমন: "বড় গাড়ি পিক আওয়ারে ডেলিভারিতে বাধা দিচ্ছে, ছোট বাইক দিলে সময় অর্ধেক কমবে")।
উত্তর ১০: প্রতিটি ধাপ তার পূর্ববর্তী ধাপের সিদ্ধান্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। সমস্যা ঠিকমতো ডিফাইন না করলে ট্রি ভুল হবে; ট্রি ভুল হলে প্রায়োরিটি ভুল হবে; প্রায়োরিটি ভুল হলে ডাটা অ্যানালাইসিস অর্থহীন হবে এবং দিনশেষে ক্লায়েন্টকে ভুল সুপারিশ দেওয়া হবে।
১২. পরিভাষাকোষ (Glossary of Terms)
📑 ১৩. এক নজরে পকেট শিট (1-Page Pocket Cheat Sheet)
Quick ReferenceDefine: সমস্যা সুনির্দিষ্ট করা ও ডে-১ হাইপোথিসিস গঠন।
Disaggregate: ইস্যু ট্রি দিয়ে সমস্যাকে ভেঙে ক্ষুদ্র লজিক্যাল অংশে বিভক্ত করা।
Prioritize: অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছেঁটে মূল ২০% কারণে ফোকাস করা (৮০/২০ নিয়ম)।
Work Plan: দায়িত্ব বণ্টন, প্রমাণ সংগ্রহের উৎস ও সময়সীমা নির্ধারণ।
Analyze: ডাটা ও সংখ্যার চুলচেরা বিচার দিয়ে প্রাথমিক অনুমান পরীক্ষা করা।
Synthesize: ডাটার পেছনের মূল বাণিজ্যিক তাৎপর্য ("সো হোয়াট?") বের করা।